কাজী নজরুল ইসলামের 'মৃত্যুক্ষুধা' : ভিন্ন জীবনবোধ
আমিনুর রহমান সুলতানসারসংক্ষেপ
কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) মাত্র তিনটি উপন্যাস লিখেছেন 'বাঁধনহারা' (১৯২৭), 'মৃত্যুক্ষুধা' (১৯৩০), 'কুহেলিকা' (১৯৩১)। উপন্যাস তিনটির শিল্পমূল্য নিয়ে সমালোচক মহলে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। তবে বিষয়চেতনায় নজরুলের উপন্যাসের সার্থকতা নিয়ে সংশয় নেই। বিশেষ করে 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসের বিষয়চেতনা জীবনবোধের ভিন্নসুরে আমাদের ভাবায়। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর সমকালকে দেখছেন political, social ও economic রূপান্তরের পটভূমিতে। ফলে তাঁর লেখক মানস গঠিত হয়েছিল বঙ্গভঙ্গ, খিলাফত, অসহযোগ ও সন্ত্রাসবাদের পটভূমিতে। এর সাথে কল্লোলের কালচেতনাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
ব্রিটিশ-শাসিত ঔপনিবেশ হওয়ায় আমাদের বাংলা ব্রিটিশদের দ্বারা প্রবঞ্চনার শিকার হয়েছে একাধিক ভাবে। সমাজজীবনে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে, রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্রিটিশদের হস্তক্ষেপ বাংলার জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। 'কংগ্রেস' (১৮৮৫), কিংবা 'মুসলিম লীগ' (১৯০৬) কোনো রাজনৈতিক দলই ব্রিটিশদের কৌশলের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারেনি। ফলে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন, স্বদেশী আন্দোলন, খিলাফত আন্দোলন কোনোটাই ডানা বাঁধতে পারেনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪) শুরু হলে বাংলাসহ সমগ্র জাতিকে ব্রিটিশদের সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে হলো। তবে এই সহযোগিতার পশ্চাতে কাজ করেছিল স্বরাজ প্রাপ্তির প্রত্যাশা। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে (১৯১৮) স্বরাজ এলোনা দেশে। বরং মনটেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার পরিকল্পনা (১৯১৯)-র প্রভাবে বাংলার সমাজ জীবন অর্থনৈতিক চাপে পিষ্ট হতে থাকলো। হতাশায় নিমজ্জিত হতে থাকলো নিষ্ঠুর দমননীতিমূলক রাওলাট আইনের কবলে পতিত হয়ে। অবশ্য এই প্রতিবেশ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে বাংলার জনজীবন প্রচণ্ড বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠে। কিন্তু প্রতিবাদ বয়ে নিয়ে আসে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু। জালিয়ানওয়ালাবাগের বিশাল জনসমাবেশে নৃশংসভাবে গুলি চালায় ইংরেজ সরকার। নিহত হয় অগণিত নিরীহ মানুষ।
ব্রিটিশ-শাসিত ঔপনিবেশ হওয়ায় আমাদের বাংলা ব্রিটিশদের দ্বারা প্রবঞ্চনার শিকার হয়েছে একাধিক ভাবে। সমাজজীবনে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে, রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্রিটিশদের হস্তক্ষেপ বাংলার জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। 'কংগ্রেস' (১৮৮৫), কিংবা 'মুসলিম লীগ' (১৯০৬) কোনো রাজনৈতিক দলই ব্রিটিশদের কৌশলের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারেনি। ফলে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন, স্বদেশী আন্দোলন, খিলাফত আন্দোলন কোনোটাই ডানা বাঁধতে পারেনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪) শুরু হলে বাংলাসহ সমগ্র জাতিকে ব্রিটিশদের সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে হলো। তবে এই সহযোগিতার পশ্চাতে কাজ করেছিল স্বরাজ প্রাপ্তির প্রত্যাশা। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে (১৯১৮) স্বরাজ এলোনা দেশে। বরং মনটেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার পরিকল্পনা (১৯১৯)-র প্রভাবে বাংলার সমাজ জীবন অর্থনৈতিক চাপে পিষ্ট হতে থাকলো। হতাশায় নিমজ্জিত হতে থাকলো নিষ্ঠুর দমননীতিমূলক রাওলাট আইনের কবলে পতিত হয়ে। অবশ্য এই প্রতিবেশ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে বাংলার জনজীবন প্রচণ্ড বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠে। কিন্তু প্রতিবাদ বয়ে নিয়ে আসে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু। জালিয়ানওয়ালাবাগের বিশাল জনসমাবেশে নৃশংসভাবে গুলি চালায় ইংরেজ সরকার। নিহত হয় অগণিত নিরীহ মানুষ।
