নজরুল কথাসাহিত্য : ভাষা বিন্যাসের নবদিগন্ত
সুজিত সরকারসারসংক্ষেপ
১. প্রস্তাবনা ভাষা হচ্ছে আত্মপ্রকাশের অন্যতম বাহন। মানুষ মুখের এবং লেখার ভাষায় নিজেকে প্রকাশ করে। সাহিত্য লেখার ভাষাতেই প্রকাশিত হয়। লেখক নিজের, বহির্জজগতের এবং অন্যের কথা সকলনায় লেখার ভাষায় প্রকাশ করেন। প্রকাশের সে ভাষা ব্যক্তি ও বিষয়ানুসারে এবং কালের ব্যবধানে হয় স্বতন্ত্র, তা সচেতন পাঠকমাত্রই অবহিত। কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯থ৬) - এর কথাসাহিত্যের ভাষা যে সেই স্বাতন্ত্র্যেরই পরিচয় বহন করছে এবং কেনো, আর কি সে স্বাতন্ত্র্য-মূল্যত সেটাই এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য।
২. নজরুল কথাসাহিত্যঃ প্রকাশকাল ও আনুসঙ্গিক প্রসঙ্গ বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলামের পরিচয় প্রধানত কবি হিসেবে। অথচ তাঁর প্রকাশিত প্রথম রচনা 'বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী' কিন্তু একটি গল্প। গল্পটি ১৩২৬ এ মাসিক সওগাত-এর জ্যৈষ্ঠ মাসে ১ম বর্ষ ৭ম সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এর পরে ত্রৈমাসিক 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা'র শ্রাবণ (জুলাই-আগস্ট) ২য় বর্ষ, ২য় সংখ্যায় 'মুক্তি' নামক তাঁর একটি কবিতা প্রকাশিত হয়। করাচি সেনানিবাস থেকে এই গল্প ও কবিতাটি তিনি পত্রিকায় পাঠান। ওই একই বছরে সওগাতে ভাদ্র-আশ্বিন এবং কার্তিক মাসে তাঁর 'স্বামী হারা' গল্প, 'কবিতা সমাধি' কবিতা এবং 'তুর্ক মহিলার ঘোমটা খোলা' শিরোনামে প্রবন্ধ প্রকাশিত হলে তাঁর সম্পর্কে সাহিত্য প্রেমীরা কৌতূহলী হয়ে ওঠেন। নজরুল ইসলাম বিশ্বযুদ্ধ পর কলকাতায় এলে বামপন্থী রাজনীতিবীদ মোজাফফর আহমেদের (১৮৮৯-১৯৭৩) সহযোগিতা আর বন্ধুত্ব লাভ করেন। বাল্যবন্ধু শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ও (১৯০১-১৯৭৬) এ-সময় কলকাতায়। এদের সান্নিধ্যে এসে নজরুল একের পর এক গান-কবিতা আর গল্প রচনার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনা এবং সাহসী সম্পাদকীয় লেখা শুরু করেন।
তবুও তাঁর গান ও কবিতার তুলনায় গদ্য রচনার সংখ্যা কম। তিনি মোট উনিশটি গল্প রচনা করেছেন-যেগুলোর মধ্যে আঠারটি পরে 'ব্যথার দান' (ফাল্গুন-১৩২৮), রিক্তের বেদন' (পৌষ-১৩৩১), ও 'শিউলীমালা' (আশ্বিন-১৩৩৪) নামে তিনটি গল্প গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। তাঁর উপন্যাসও তিনটি-'বাঁধনহারা' (শ্রাবণ-১৩৩৪), 'মৃত্যুক্ষুধা' (ফাল্গুন-১৩৩৬), ও 'কুহেলিকা' (শ্রাবণ-১৩৩৮)। একমাত্র 'বনের পাপিয়া' নামক গল্পটি কোনো গল্প গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
২. নজরুল কথাসাহিত্যঃ প্রকাশকাল ও আনুসঙ্গিক প্রসঙ্গ বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলামের পরিচয় প্রধানত কবি হিসেবে। অথচ তাঁর প্রকাশিত প্রথম রচনা 'বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী' কিন্তু একটি গল্প। গল্পটি ১৩২৬ এ মাসিক সওগাত-এর জ্যৈষ্ঠ মাসে ১ম বর্ষ ৭ম সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এর পরে ত্রৈমাসিক 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা'র শ্রাবণ (জুলাই-আগস্ট) ২য় বর্ষ, ২য় সংখ্যায় 'মুক্তি' নামক তাঁর একটি কবিতা প্রকাশিত হয়। করাচি সেনানিবাস থেকে এই গল্প ও কবিতাটি তিনি পত্রিকায় পাঠান। ওই একই বছরে সওগাতে ভাদ্র-আশ্বিন এবং কার্তিক মাসে তাঁর 'স্বামী হারা' গল্প, 'কবিতা সমাধি' কবিতা এবং 'তুর্ক মহিলার ঘোমটা খোলা' শিরোনামে প্রবন্ধ প্রকাশিত হলে তাঁর সম্পর্কে সাহিত্য প্রেমীরা কৌতূহলী হয়ে ওঠেন। নজরুল ইসলাম বিশ্বযুদ্ধ পর কলকাতায় এলে বামপন্থী রাজনীতিবীদ মোজাফফর আহমেদের (১৮৮৯-১৯৭৩) সহযোগিতা আর বন্ধুত্ব লাভ করেন। বাল্যবন্ধু শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ও (১৯০১-১৯৭৬) এ-সময় কলকাতায়। এদের সান্নিধ্যে এসে নজরুল একের পর এক গান-কবিতা আর গল্প রচনার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনা এবং সাহসী সম্পাদকীয় লেখা শুরু করেন।
তবুও তাঁর গান ও কবিতার তুলনায় গদ্য রচনার সংখ্যা কম। তিনি মোট উনিশটি গল্প রচনা করেছেন-যেগুলোর মধ্যে আঠারটি পরে 'ব্যথার দান' (ফাল্গুন-১৩২৮), রিক্তের বেদন' (পৌষ-১৩৩১), ও 'শিউলীমালা' (আশ্বিন-১৩৩৪) নামে তিনটি গল্প গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। তাঁর উপন্যাসও তিনটি-'বাঁধনহারা' (শ্রাবণ-১৩৩৪), 'মৃত্যুক্ষুধা' (ফাল্গুন-১৩৩৬), ও 'কুহেলিকা' (শ্রাবণ-১৩৩৮)। একমাত্র 'বনের পাপিয়া' নামক গল্পটি কোনো গল্প গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
