সাহিত্য · সংগীত · চিন্তা · উত্তরাধিকারনজরুল গবেষণা পত্রিকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকনজরুল গবেষণা কেন্দ্রঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কেন্দ্র সম্পর্কেঅ্যাডমিন প্রবেশ
গবেষণাপত্রসাহিত্যিকী১৯৯৭

হিন্দু-মুসলিম সাংস্কৃতিক ঐক্য ও কবি নজরুল ইসলাম

অমৃতলাল বালা

সারসংক্ষেপ

নির্মম হলেও একথা সত্য যে, ভারতবর্ষে হিন্দু-মানস মুসলিম ঐতিহ্যকে আপন ভাবতে পারে নি, তেমনি मुसलमानরাও হিন্দু সংস্কৃতিকে অনীহার দৃষ্টিতে দেখেছে। এই ঈর্ষা-বিদ্বেষ কণ্টকিত সমাজে নজরুল ইসলামের আবির্ভাব ঘটে এবং তিনি একটা সুস্থতার হাওয়া বইয়ে দেন।১ নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্য-সাধনায় হিন্দু ও মুসলিম সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমন্বয় সাধন এক অমর কীর্তি।
নজরুল ইসলাম ছিলেন উদার-অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী। কাব্য প্রতিভার মতো উদার মানবতাও ছিল তাঁর সহজাত প্রবৃত্তি। হিন্দু-মুসলমানের প্রেম, সম্প্রীতি ও মৈত্রীর আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। তাঁর কবিতা, সঙ্গীত, গল্প, উপন্যাসে এই মনোভাব সর্বদা ক্রিয়াশীল ছিল। 'তাঁর দৃষ্টিতে মানুষের স্থান সবার উপরে—ধর্ম শাস্ত্র, মসজিদ-মন্দিরের চেয়েও পবিত্র এই মানুষ। মানুষকে ভালোবাসেন — মানুষের সর্বাত্মক মুক্তি চান বলেই কবি পরাধীন জাতির স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেন, শ্রমিক-কৃষক সর্বহারা মানুষকে দিতে চান অন্নবস্ত্রের অধিকার।' নজরুলের কাছে সব জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শ্রদ্ধা পেয়েছে। সকল ধর্মের উপর তিনি মানব ধর্মকে স্থান দিয়েছেন। মানবতাবাদী নজরুল ছিলেন সত্য ও সুন্দরের পূজারি।
একই কারণে নজরুল ইসলাম হিন্দু-মুসলিম সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রবক্তা। নজরুল কবি-মানসে তা আশ্চর্য ফসল। নজরুল-কবিতা সত্তার এ অনুভূতি স্বরূপ উপলব্ধির জন্যে আমাদের একটু পেছনে ফিরে তাকাতে হবে। কারণ ভারতবর্ষে এ দু'টি জাতি-সম্প্রদায় যুগ-যুগ পাশাপাশি বসবাস করে এসেছে। রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক-ধর্মীয় কারণে তারা যেমন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে সংকটের সৃষ্টি করেছে, আবার পারস্পরিক সৌহার্দ-সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি করে মিলে-মিশে একাকার হয়ে গেছে। এসবের বাস্তব চিত্র বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের চতুর্দশ শতক থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত বিস্তৃত।

নথি পড়ুন

আলাদা পৃষ্ঠায় ফাইল খুলুন