বিদ্রোহীঃ আমিত্বের স্বরূপ আমি সহসা আমারে চিনেছি
মোঃ হারুন-অর-রশীদসারসংক্ষেপ
১.০ নজরুলের জনপ্রিয়তম অভিধা বিদ্রোহী। এ অভিধায় অভিহিত হওয়ার অন্যতম কারণ নিজের সম্পর্কে তাঁর সপ্রতিভ কতিপয় উক্তি, “আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদচিহ্ন;/ আমি স্রষ্টা সূদন, শোকতাপ হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ কবির ভিন্ন।”১ “খোদার আসন 'আরশ' ছেদিয়া/উঠিয়াছি চির বিস্ময় আমি বিশ্ব-বিধাত্রীর।”২ “আর একটি কারণ তাঁর বাঁধ ভাঙা আত্মপরিচিতি। “আমি সহসা আমারে চিনেছি। আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ।”৩ সুশৃঙ্খল ভেঙেছেন তিনি; পান থেকে খসিয়েছেন সংস্কৃতির চুন। সর্ববিধ বন্ধন মুক্তি নজরুল চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অপরিমেয় আত্মশক্তি আর বিপুল আত্মবিশ্বাস তাঁকে করে তুলেছিল অকুতোভয়, নির্ভীক এবং অনমনীয় আপসহীন ব্যক্তিত্বের অধিকারী।
তাঁর বিদ্রোহ বহু ব্যাপক-স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল ব্যাপী। মানব সত্তা থেকে বিশ্ব সত্তা পর্যন্ত বিস্তৃত তাঁর বিদ্রোহের অভিপ্রায় উচ্চকিত নিনাদে উচ্চারিত। সামাজিক অবক্ষয়, রাজনৈতিক নৈরাজ্য, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ধর্মীয় ভণ্ডামি, নির্লজ্জাবিকলতা, ব্যক্তিহীনতা, মূল্যবোধের অভাব, শোষণ, নিপীড়ন, সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধি, হিন্দু-মুসলমান সংঘাত, নারীর মূল্য, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন প্রভৃতি অজস্র বিষয়ে নজরুলের বিদ্রোহ বিস্তারিত। তাঁর বিদ্রোহী সত্তার অন্তত তিনটি দিক থেকে আলোচনা যোগ্যঃ ১. আমিত্বের বিকাশ। ২. বোধীদীপ্ত দায়িত্ব বোধ থেকে জাত আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক বিষয়ে অভিব্যক্তি। ৩. কাব্য-কলার গঠন-কৌশল ও বাক্ নির্মিতির স্বাতন্ত্র্য।
আমিত্বের বিকাশঃ একজন মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ তাঁর ব্যক্তিত্ব। ধন নয়, মান নয়-ব্যক্তিত্ব। ব্যক্তিত্বহীন মানুষ যত বড় শিক্ষিত, বিদগ্ধ, পণ্ডিত, সম্পদশালী কিংবা প্রভাব প্রতিপত্তি সম্পন্নই হোন না কেন; মূলতঃ তিনি দুর্বল ও মেরুদণ্ডহীন, নির্জীব, নিষ্প্রাণ, অপূর্ণাঙ্গ মানুষ। নামকাওয়াস্তে মানব সত্তায় Unique Individuality মানব মহিমার ভূষণ। অনন্য ব্যক্তিত্বসত্তা মানুষের অমূল্য সম্পদ।
তাঁর বিদ্রোহ বহু ব্যাপক-স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল ব্যাপী। মানব সত্তা থেকে বিশ্ব সত্তা পর্যন্ত বিস্তৃত তাঁর বিদ্রোহের অভিপ্রায় উচ্চকিত নিনাদে উচ্চারিত। সামাজিক অবক্ষয়, রাজনৈতিক নৈরাজ্য, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ধর্মীয় ভণ্ডামি, নির্লজ্জাবিকলতা, ব্যক্তিহীনতা, মূল্যবোধের অভাব, শোষণ, নিপীড়ন, সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধি, হিন্দু-মুসলমান সংঘাত, নারীর মূল্য, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন প্রভৃতি অজস্র বিষয়ে নজরুলের বিদ্রোহ বিস্তারিত। তাঁর বিদ্রোহী সত্তার অন্তত তিনটি দিক থেকে আলোচনা যোগ্যঃ ১. আমিত্বের বিকাশ। ২. বোধীদীপ্ত দায়িত্ব বোধ থেকে জাত আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক বিষয়ে অভিব্যক্তি। ৩. কাব্য-কলার গঠন-কৌশল ও বাক্ নির্মিতির স্বাতন্ত্র্য।
আমিত্বের বিকাশঃ একজন মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ তাঁর ব্যক্তিত্ব। ধন নয়, মান নয়-ব্যক্তিত্ব। ব্যক্তিত্বহীন মানুষ যত বড় শিক্ষিত, বিদগ্ধ, পণ্ডিত, সম্পদশালী কিংবা প্রভাব প্রতিপত্তি সম্পন্নই হোন না কেন; মূলতঃ তিনি দুর্বল ও মেরুদণ্ডহীন, নির্জীব, নিষ্প্রাণ, অপূর্ণাঙ্গ মানুষ। নামকাওয়াস্তে মানব সত্তায় Unique Individuality মানব মহিমার ভূষণ। অনন্য ব্যক্তিত্বসত্তা মানুষের অমূল্য সম্পদ।
