সাহিত্য · সংগীত · চিন্তা · উত্তরাধিকারনজরুল গবেষণা পত্রিকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকনজরুল গবেষণা কেন্দ্রঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কেন্দ্র সম্পর্কেঅ্যাডমিন প্রবেশ
গবেষণাপত্রসাহিত্যিকী১৯৯৭

নজরুলের আখ্যানমূলক কবিতা

শফিকুন্নবী সামাদী

সারসংক্ষেপ

নজরুলের আখ্যানমূলক কবিতার সংখ্যা কম। তবে এমন কিছু কবিতা আছে যাতে প্রচ্ছন্ন কাহিনীর আভাস আছে। এটা সর্বজনবিদিত, নজরুল স্থির চিত্তে কোন শিল্পচর্চা করেননি, কোন সময়ের স্থির-নির্জনতা তার সৃজনশীলতার পরিসর রচনা করেনি। ভবঘুরে স্বভাবের নজরুল অসময়ের আরাধনা করেছেন। স্বাধীন সত্তা, তাঁর আবেগে কোন সংযম ছিল না। কিন্তু যে সময়ে, যে সমাজে নজরুল জন্মগ্রহণ করেছেন সেখানে জাতিগত দ্বন্দ্ব ও সাম্প্রদায়িক-উগ্রতায় উত্তপ্ত, সাম্রাজ্যবাদীর শোষণে অতিষ্ঠ বাংলার মানুষ। নজরুল বড়ো কবি। সমাজ সচেতন কবি। তাঁর কবিতা সমাজ ও রাজনীতিকে নিয়ে। প্রখর প্রতিবাদী একজন মানুষ সমাজের বাইরে থেকে কিছু করতে পারেন না। সামাজিক দায় থেকেই কাব্যচর্চা করেছেন তিনি। নজরুলের কবিতায় কাহিনীর সুস্পষ্ট প্রভাব খুব কম। মূর্ত কাহিনীর কবিতা হিসেবে চিহ্নিত করা যায় 'অগ্নি-বীণা' (১৯২২) কাব্যের "খেয়াপারের তরণী", "মোহাররম", এবং 'ঝিঙে ফুল' (১৯২৬) কাব্যের কিছু শিশুতোষ কবিতা। তবে বিমূর্ত কাহিনীর ভাবনায় আছে কিছু কবিতায়। কাহিনী নয় কাহিনীর ছায়া (Story Skech) আছে ধর্মীয় ও প্রেমমূলক কয়েকটি কবিতায়। ধর্মীয় চেতনামূলক বিমূর্ত কাহিনী কবিতার পূর্বে "কামাল পাশা", "আনোয়ার", "শাত-ইল-আরব", "খালেদ", "চিরঞ্জীব জগলুল", "ফাতেহা-ই-দোয়াজ দহম" (আবির্ভাব), "রীফ সর্দার" প্রভৃতি কবিতা। প্রেমমূলক বিমূর্ত কাহিনীর কবিতা "পূজারিনী", "বাতায়ন-পাশে ওয়াক-তরুর সারি", "চৈতী হাওয়া", "শীতের সিন্ধু", "কর্ণফুলী", "তুমি মোরে ভুলিয়াছ", "আমার কবিতা তুমি" ইত্যাদি। নজরুলের মূর্ত ও বিমূর্ত কাহিনীর কবিতার বিভাজন দেখে স্বভাবতই এমন প্রশ্ন আসতে পারে নজরুল কেন 'Story line' পুরোপুরি রক্ষা করে বেশী কবিতা লেখেননি? এটা কি তার সংযমী চেতনার ফল না-কি সম্প্রদায় ও সমাজের প্রতি অনিবার্য দায়িত্ব থেকে। কবিতার গঠন-কৌশল এর বিষয় আলোচনায় এমন প্রশ্নগুলো খতিয়ে দেখা যেতে পারে। কেননা এটা নিশ্চিত, নজরুলের অসংযত চিত্তের সাথে জড়িয়ে আছে তার ধর্ম, সমাজ ও রাজনীতি-চেতনা। এ ক্ষেত্রে বারবার তার কবিতা কখনো বিশ্বনবী কখনো পৌরাণিক ধারণায় কখনো স্মৃতি তর্পণে আবিষ্ট থেকেছে। এ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়েই স্বধর্মের মানুষ এবং সমাজকে গৌরবোজ্জ্বল শৌর্য-বীর্যের কাহিনীর প্রতি সচেতন করে তুলেছেন। এক্ষেত্রে শিল্পচর্চার চেয়ে সামাজিক দায়িত্বই তার বেশী অগ্রাধিকার পেয়েছে।
পুরো আখ্যানমূলক কবিতা 'খেয়া-পারের তরণী'। এখানকার কাহিনী স্পষ্ট। চমৎকার এক চিত্রকল্পে কাহিনীর আভাস নজরে পড়ে।

নথি পড়ুন

আলাদা পৃষ্ঠায় ফাইল খুলুন