বাঙালি মুসলিম সমাজ ও নজরুলের প্রতিক্রিয়া
জুলফিকার মতিনসারসংক্ষেপ
এ বিষয়ে বোধকরি আর কোনো সন্দেহ নেই যে, বাংলা সাহিত্যের পরিসরে কাজী নজরুল ইসলাম অন্যতম প্রধান যুগপ্রবর্তক কবি। এবং আরো বলা যায়, তিনি ছিলেন এক প্রচণ্ড কবিপুরুষ- যার পরিচয় উৎকীর্ণ হয়ে আছে তাঁর বিদ্রোহী নামের পরিচয়ে। তাঁর আরো কৃতিত্ব এই যে ভাব, বিষয় ও আঙ্গিকের ক্ষেত্রে তিনি নিজের ব্যক্তিত্বকে ইমপোজ করতে পেরেছিলেন।
আমরা জানি, নজরুলের কাব্য প্রতিভার স্ফূরণ ঘটে শৈশবই। প্রথম মহাযুদ্ধ (১৯১৪-১৮)- এ সৈনিকবৃত্তি গ্রহণ করে বাঙালি পল্টনে থাকার সময় কলকাতা থেকে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকাগুলোতে তাঁর লেখাও মুদ্রিত হয়। কিন্তু কবি হিসেবে তিনি বিস্ময়কর গুরুত্ব অর্জন করেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রতি অলক্ষ্যেই। বস্তুত তখনকার পরাধীন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক পরিবেশ, প্রথম মহাযুদ্ধোত্তর কালের অধিকার সচেতন ভারতবাসীর প্রত্যাশা, ব্রিটিশ শাসকদের নিবর্তনমূলক পদক্ষেপ, দেশব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও এ দেশীয় শিক্ষিত যুবকদের বেকারত্ব, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সূত্রপাত এবং সমান্তরাল দুটো রাজনৈতিক আন্দোলন-অসহযোগ ও খিলাফত, ঐ শব্দটির সঙ্গে যুক্ত করেছিল এক নতুন মাত্রা। নজরুলের কবিতাও মিলেমিশে গিয়েছিল তার সঙ্গে। যুগের মর্মবাণীকেই তিনি যেন বহন করছিলেন কবিতায়। এ দিকটা বিবেচনা করে অনেকেই নজরুলের এই আবির্ভাবকে তুলনা করেন 'ধূমকেতু'র সঙ্গে। এ বিষয়টাতে কবি নিজেও ছিলেন অতি সচেতন। তাঁর উক্তি থেকেই প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন ০৫/১০/২৯ তারিখে আজিজুল হাকিমকে লেখা এক চিঠিতে বলেনঃ 'আমি এসেছি হঠাৎ ধূমকেতুর মতো, হয়তো চোখ ধাঁদিয়ে দিয়েছি।'
তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, ধূমকেতুর মতো নজরুলের এই আবির্ভাব শুধুই লোক দেখানো স্টান্ট ছিল না। তাঁর কবিতায় মূর্ত হয়েছে পালাবদলের তাৎপর্য পূর্ণ ধ্বনি ও বাস্তব সংলগ্নতার অঙ্গীকার।
আমরা জানি, নজরুলের কাব্য প্রতিভার স্ফূরণ ঘটে শৈশবই। প্রথম মহাযুদ্ধ (১৯১৪-১৮)- এ সৈনিকবৃত্তি গ্রহণ করে বাঙালি পল্টনে থাকার সময় কলকাতা থেকে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকাগুলোতে তাঁর লেখাও মুদ্রিত হয়। কিন্তু কবি হিসেবে তিনি বিস্ময়কর গুরুত্ব অর্জন করেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রতি অলক্ষ্যেই। বস্তুত তখনকার পরাধীন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক পরিবেশ, প্রথম মহাযুদ্ধোত্তর কালের অধিকার সচেতন ভারতবাসীর প্রত্যাশা, ব্রিটিশ শাসকদের নিবর্তনমূলক পদক্ষেপ, দেশব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও এ দেশীয় শিক্ষিত যুবকদের বেকারত্ব, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সূত্রপাত এবং সমান্তরাল দুটো রাজনৈতিক আন্দোলন-অসহযোগ ও খিলাফত, ঐ শব্দটির সঙ্গে যুক্ত করেছিল এক নতুন মাত্রা। নজরুলের কবিতাও মিলেমিশে গিয়েছিল তার সঙ্গে। যুগের মর্মবাণীকেই তিনি যেন বহন করছিলেন কবিতায়। এ দিকটা বিবেচনা করে অনেকেই নজরুলের এই আবির্ভাবকে তুলনা করেন 'ধূমকেতু'র সঙ্গে। এ বিষয়টাতে কবি নিজেও ছিলেন অতি সচেতন। তাঁর উক্তি থেকেই প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন ০৫/১০/২৯ তারিখে আজিজুল হাকিমকে লেখা এক চিঠিতে বলেনঃ 'আমি এসেছি হঠাৎ ধূমকেতুর মতো, হয়তো চোখ ধাঁদিয়ে দিয়েছি।'
তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, ধূমকেতুর মতো নজরুলের এই আবির্ভাব শুধুই লোক দেখানো স্টান্ট ছিল না। তাঁর কবিতায় মূর্ত হয়েছে পালাবদলের তাৎপর্য পূর্ণ ধ্বনি ও বাস্তব সংলগ্নতার অঙ্গীকার।
