সাহিত্য · সংগীত · চিন্তা · উত্তরাধিকারনজরুল গবেষণা পত্রিকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকনজরুল গবেষণা কেন্দ্রঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কেন্দ্র সম্পর্কেঅ্যাডমিন প্রবেশ
গবেষণাপত্রসাহিত্যিকী১৯৯৭

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল

আজহারউদ্দীন খান

সারসংক্ষেপ

নজরুল ইসলামের প্রিয় কবি ছিলেন দুজন-এক রবীন্দ্রনাথ অন্যজন হাফিজ। হাফিজের দীওয়ানের অনুবাদ দিয়ে তাঁর কবি জীবনের সূচনা না হলেও করাচীর সেনানিবাসে তিনি মৌলবীর কণ্ঠে হাফিজের দীওয়ান আবৃত্তি শুনে ফারসী ভাষা আয়ত্ত করে সমগ্র দীওয়ান পড়েছিলেন এবং কিছু কিছু রুবাই-এর অনুবাদ সেনানিবাসে বসেই করেছিলেন; সেগুলি পরে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। আরও পরে পুত্র বুলবুলের মৃত্যুশোক ভোলার জন্য হাফিজের রুবাই অনুবাদ সম্পন্ন করেন এবং গ্রন্থাকারে ১৯৩০ জুলাইতে বেরোয়। আর রবীন্দ্রনাথ তাঁর কাছে 'যখনই কবিতা তব পড়িয়াছি আমি, তার আস্বাদনে যেন হয়ে গেছি লয়'-এ তাঁরই স্বীকারোক্তি (দ্রঃ অশ্রু পুষ্পাঞ্জলিঃ নতুন চাঁদ)। তিনি তাঁর কবিতা স্কুল জীবনে বহু জায়গায় আবৃত্তি করেছেন। রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে কেউ কিছু বিরূপ মন্তব্য করলে তিনি রুষ্ট হতেন। সিয়ারসোল রাজস্কুলে পড়ার সময় রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে একটি ঘটনা ঘটেছিল। রবীন্দ্রনাথের নিন্দা করেছিল একজন, বলেছিল তিনি বড়লোকের ছেলে, টাকার জোরে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, কবিতা তেমন উঁচুদরের নয়, টাকা থাকলে ওরকম কবিতা সবাই লিখতে পারে। এই বলায় নজরুল ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় জোরে এক ঘা বসিয়ে দেন। মাথা ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। ছেলেটির আত্মীয় স্বজন নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। মামলা আদালতে ওঠার আগে আপসে নিষ্পত্তি হয়ে যায়। হুগলিতে নজরুল যখন পরিবারবারে বসবাস করছেন সেইময় তাঁর বন্ধুটি তাঁকে মাথায় মারার চিহ্নটি দেখিয়েছিলেন। নজরুল এই ঘটনাটি পরে ‘আত্মশক্তি’তে প্রকাশিত (১৩২৭ সালের ২য় বর্ষ ৩৭ সংখ্যাঃ ১৩৩৪ ১৪ই পৌষ) ‘বড়র পিরীতি বালির বাঁধ’ প্রবন্ধে উল্লেখ করেছিলেন, “আমার এই ভক্তির নির্মম প্রকাশ রবীন্দ্র-বিদ্বেষী কোনো একজনের মাথার চাঁদিতে আজা অক্ষয় হয়ে লেখা আছে এবং এই ভক্তির বিচারের ভার একদিন আদালতের ধর্মাধিকরণের ওপরেই পড়েছিল।” সৈনিক জীবনেও সেনানিবাসে তাঁর সঙ্গে রবীন্দ্র সংগীতের স্বরলিপির বই “স্বরবিতান’ থাকত, রবীন্দ্রনাথের গানই তিনি গাইতেন। যুদ্ধ থেকে ফিরে এসেও আড্ডায় মজলিসে তিনি রবীন্দ্রসংগীত গাইতেন।

নথি পড়ুন

আলাদা পৃষ্ঠায় ফাইল খুলুন