নজরুল-সাহিত্যে বিচ্ছিন্নতাবোধ
অনীক মাহমুদসারসংক্ষেপ
দুই. কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) তিরিশোত্তর যুগে বাংলা সাহিত্য সাধনায় আবির্ভূত হয়েছিলেন। কিন্তু যে অর্থে তিরিশোত্তর কালের আধুনিক বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় পর্যায়ের সূচনা, নজরুলের সাধনা সেখানে ভিন্নমুখী ছিল। ভাবে-ভাষায়-প্রকরণে রবীন্দ্রবিরোধী কাব্যচেতনা ছিল এ ধারার কবিদের অনিষ্ট। সে ক্ষেত্রে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, মোহিতলাল মজুমদার, যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন রবীন্দ্রধারার মধ্য থেকেই নিজেদের স্বতন্ত্র ও কবিত্বের পথ নির্মাণ করেছেন। বলাবাহুল্য রবীন্দ্রধারার ভেতরে থেকে নিজের অস্তিত্ব ও স্বতন্ত্র ঘোষণা করলেও নজরুলের মধ্যে যুগধর্ম ও সমকালমনস্কতা প্রবল ছিল। তৎকালীন সমাজে মানুষে মানুষে হানাহানি, বিদ্বেষ, শোষণ-বঞ্চনা, নিপীড়িতের মর্মবেদনা তিনি প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তাঁর সময়ে ব্রিটিশ বেনিয়া শাসককুল পুঁজিবাদী কায়দায় ভারতবর্ষের মানুষদের শোষণ-শাসনে ন্যুজ্জ করেছে, অন্যদিকে তাদের দোসর দেশীয় জমিদার, মহাজন, মুসুদ্দি, ধর্মব্যবসায়ীরা সামন্তবাদী ও পুঁজিবাদী কৌশলে এতদ্দেশীয় সাধারণ মানুষদের নিঃস্ব করেছে। মৌলিক চাহিদা পূরণ না হবার ফলে এদেশের কৃষক-শ্রমিক-মজুর-মুটে-কুলি জেলে এই অবহেলিত মানুষেরা সুস্বাস্থ্য জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। জমিদার, মহাজনদের অত্যাচারে বাস্তুবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়ে কেউ কেউ লোটা কম্বল সম্বল করে পথে এসে দাঁড়িয়েছে। নজরুল-সাহিত্যে বিচ্ছিন্নতাবোধের কয়েকটি পরিসর রয়েছে। এক. যারা সামন্তবাদ এবং পুঁজিবাদী শোষণ-বঞ্চনায় সুস্থ মানবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে তাদের প্রতি কবির মমত্ব ও সহানুভূতি প্রকাশ এবং এই অপঘাত থেকে বেরিয়ে আসবার জন্য উদ্দীপনা সৃষ্টিরও প্রয়াস রয়েছে। দুই. বিচ্ছিন্নতার সৃজক ধনবাদী, গণবিরোধী ও শোষণ-বঞ্চনার হোতা যারা তাদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের দ্যোতনা রয়েছে নজরুল-সাহিত্যে। তিন. কবির ভাবে ও মনে বিচ্ছিন্নতা। চার. কথাসাহিত্য ও নাটকের সৃষ্ট চরিত্রে বিচ্ছিন্নতাবোধ।
কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২০ এর দশকের শুরু থেকে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম সংগঠক ও নেতা কমরেড মুজাফফর আহমদের সংস্পর্শে আসেন। তার আগে ১৯১৭ সালে ৪৯ নং বাঙালি পল্টনে থাকাকালীন সেমদের বেড়া ডিঙিয়ে তাঁর হাতে রুশ বিপ্লবের নিষিদ্ধ সাহিত্য এসেছিল। ১৯২০ সালে নবযুগ পত্রিকায় প্রকাশিত 'ধর্মঘট' প্রবন্ধ ও ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে আত্মশক্তি পত্রিকায় 'গণবাণী ও মুজফফর আহমদ' শীর্ষক পত্র, নবযুগ, ধূমকেতু, লাঙল, গণবাণী পত্রিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং কৃষকসম্মেলনে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ প্রভৃতির মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হই যে, নজরুল শ্রমজীবী মানুষের...
কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২০ এর দশকের শুরু থেকে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম সংগঠক ও নেতা কমরেড মুজাফফর আহমদের সংস্পর্শে আসেন। তার আগে ১৯১৭ সালে ৪৯ নং বাঙালি পল্টনে থাকাকালীন সেমদের বেড়া ডিঙিয়ে তাঁর হাতে রুশ বিপ্লবের নিষিদ্ধ সাহিত্য এসেছিল। ১৯২০ সালে নবযুগ পত্রিকায় প্রকাশিত 'ধর্মঘট' প্রবন্ধ ও ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে আত্মশক্তি পত্রিকায় 'গণবাণী ও মুজফফর আহমদ' শীর্ষক পত্র, নবযুগ, ধূমকেতু, লাঙল, গণবাণী পত্রিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং কৃষকসম্মেলনে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ প্রভৃতির মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হই যে, নজরুল শ্রমজীবী মানুষের...
