আধুনিকতা ও নজরুল ইসলাম
রফিকউল্লাহ খানসারসংক্ষেপ
আধুনিকতার সংজ্ঞার্থ নির্ণয় সম্ভবত সাহিত্য শিল্পবিচারের সর্বাপেক্ষা জটিল কাজ।১ কেননা, এত বহুকৌণিক অভিকর্ষ ও দৃষ্টিকোণ আধুনিকতার তত্ত্ব ব্যাখ্যায় ব্যয়িত হয়েছে যে, বিশেষ দৃষ্টিকোণের প্রয়োগ সেখানে খণ্ডিত হতে বাধ্য। তবুও একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, আধুনিকতার ধারণাটি সময় ও সমাজসাপেক্ষ। এর মূলে রয়েছে এক দুরন্ত গতিধর্ম-যা নিত্যনতুন চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও ভাবধারাকে প্রতিনিয়ত বহন করে আনে মানুষের সৃজনশীলতার পটভূমিতে। শিল্পবিচারের নেপথ্যে যে আধুনিক মন ক্রিয়াশীল, তা বহুলাংশে সমকালীন সময়স্বভাব নান্দনিক রুচি ও মানবজীবন সত্য অনুধাবনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। শিল্পবিচারের নেপথ্যে কেবল নয়, যে বহুমুখী, গতিশীল জীবনচেতনা আধুনিকতার অন্তলক্ষণ, নজরুলের সৃষ্টিতে তার শিল্পিত প্রকাশ ঘটেছে। সমকাল লগ্নতা, সমাজ-রাজনীতি-সচেতনতা, দ্বন্দ্ববোধ, চেতনার বিশ্বায়ন প্রভৃতি নজরুলের শিল্পস্বভাবের মৌল বৈশিষ্ট্য। বিশ শতকের প্রথম দুই শতকের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বপরিস্থিতির সন্তান অনুশীলন নজরুল মানসের গভীরতর প্রাপ্ত। এর সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে বিশ্ব ঐতিহ্যের পুনর্নির্মাণ এবং সাম্প্রতিক মানব অস্তিত্বের সংকট ও সংগ্রামের একান্তিক অনুভব।২
বাংলা কবিতার ধারায় আধুনিকতার প্রথম প্রবক্তা নিঃসন্দেহে মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ক্লাসিক সাহিত্য-রূপকে তিনি সমকালীন জীবনাকাঙ্ক্ষার উপযোগী করে পুনর্সৃষ্টি করেছিলেন। সমাজমানসের সংকট ও সম্ভাবনাকে তিনি অনুধাবন করেছিলেন রোমান্টিক চেতনা দিয়ে। এই চেতনা রবীন্দ্রনাথ এসে বৈচিত্র্য ও পূর্ণ লাভ করে। প্রাচ্য-পাশ্চাত্য শিল্প-ঐতিহ্যের অঙ্গীকার এবং স্বাবলম্বী স্রষ্টামানস তাঁকে বিশ্বজনীন বৈশিষ্ট্য দান করেছে।
কাজী নজরুল ইসলাম প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর সমাজসত্য ও শিল্পসত্যের মর্মমূল স্পর্শ করেছিলেন। মহাসমরের অভাবনীয় সামাজিক-রাজনৈতিক বিবর্তনের ফলে মানুষের মূল্যবোধ ও শিল্পরুচির ক্ষেত্রে আলোড়ন সূচিত হয়, পূর্বতন কিংবা সমকালীন সাহিত্যের মধ্যে পাঠকমন তৃপ্তির উপকরণ খুব কমই পেয়েছে। রবীন্দ্রনাথের সূক্ষ্ম ও শীর্ষ স্পর্শী নান্দনিক শিল্প সত্তার সমকালসংলগ্ন পাঠকমানসে মোহনীয় দূরত্বে পরিণত হয়েছিল।
বাংলা কবিতার ধারায় আধুনিকতার প্রথম প্রবক্তা নিঃসন্দেহে মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ক্লাসিক সাহিত্য-রূপকে তিনি সমকালীন জীবনাকাঙ্ক্ষার উপযোগী করে পুনর্সৃষ্টি করেছিলেন। সমাজমানসের সংকট ও সম্ভাবনাকে তিনি অনুধাবন করেছিলেন রোমান্টিক চেতনা দিয়ে। এই চেতনা রবীন্দ্রনাথ এসে বৈচিত্র্য ও পূর্ণ লাভ করে। প্রাচ্য-পাশ্চাত্য শিল্প-ঐতিহ্যের অঙ্গীকার এবং স্বাবলম্বী স্রষ্টামানস তাঁকে বিশ্বজনীন বৈশিষ্ট্য দান করেছে।
কাজী নজরুল ইসলাম প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর সমাজসত্য ও শিল্পসত্যের মর্মমূল স্পর্শ করেছিলেন। মহাসমরের অভাবনীয় সামাজিক-রাজনৈতিক বিবর্তনের ফলে মানুষের মূল্যবোধ ও শিল্পরুচির ক্ষেত্রে আলোড়ন সূচিত হয়, পূর্বতন কিংবা সমকালীন সাহিত্যের মধ্যে পাঠকমন তৃপ্তির উপকরণ খুব কমই পেয়েছে। রবীন্দ্রনাথের সূক্ষ্ম ও শীর্ষ স্পর্শী নান্দনিক শিল্প সত্তার সমকালসংলগ্ন পাঠকমানসে মোহনীয় দূরত্বে পরিণত হয়েছিল।
