নজরুলের গান : বাণী ও সুর
সারোয়ার জাহানসারসংক্ষেপ
১. প্রকৃত অর্থে কবি নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) শিল্পসৃষ্টির সময় পেয়েছিলেন মাত্র দুই দশক। এই সময় সীমায় তাঁর সৃষ্টির পরিমাণ বিস্ময়কর। কবিতা-গান-উপন্যাস-নাটক-প্রবন্ধ-গল্প কী লেখেননি এই স্বল্প সময়ে! এগুলির যে-কোনো একটির সঙ্গে পরিচয় ঘটলেই পাঠক বুঝতে পারেন, তা-তে এক বিরাট প্রতিভার স্বাক্ষর উৎকীর্ণ।
বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে দরিদ্র এক পরিবারে নজরুলের জন্ম। নজরুল পিতৃহারা হন আট বছর বয়সে। এর পরে বড়ো অনিশ্চয়তা এবং দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে কেটেছে তাঁর শৈশব-কৈশোর। গ্রামের মক্তব থেকে নিম্ন প্রাথমিক পাশ করেছেন; ওই মক্তবেই দশ বছর বয়সে তাঁকে শিক্ষকতা দিয়ে জীবনের প্রকৃত সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হয়েছে। পরে মাজার শরীফের খাদেমের কাজ, মসজিদে ইমামতি, বাবুর্চিগিরি, রুটির দোকানে ময়দামাধার চাকরি—কৈশোরে জীবিকার জন্য এতো কিছু! বর্ধমান হাইস্কুলে কিছুদিন পড়াশোনা করার পরে চলে যান ময়মনসিংহের দরিরামপুর হাইস্কুলে। সেখান থেকে এক বছর পরে পলায়ন এবং শিয়ারশোল হাইস্কুলে দশম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন। শিয়ারশোল স্কুলে পড়ার সময়েই ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনে যোগদান করেন। নৌশেরায় ট্রেনিং নিয়ে চলে যান করাচীতে। ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টন ভেঙে দেওয়া হয় তিন বছরের মাথায়। নজরুল চলে আসেন কলকাতায়। এই তথ্যগুলি আমাদের অজানা নয়। তবু নজরুলের যে কোনো সৃষ্টিকর্ম আলোচনা কালে এগুলি বার বার মনে করা জরুরী হয়ে পড়ে। এক দুর্মর অনিশ্চয়তা এবং অস্বচ্ছলতা পল্টনে যাবার আগে পর্যন্ত তাঁর অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হয়ে ছিল। পল্টন জীবন তাঁর স্বাভাবিক মনোজীবনের সম্পূর্ণ বিপরীত হলেও, মনে হয় সেখানে তিনি কিছুদিন নিশ্চিত জীবন লাভ করেছিলেন। সেখানে তিনি ফারসি-জানা পাঞ্জাবী মৌলভীর কাছে ফারসি শেখেন, যদিও কৈশোরে তাঁর চাচার কাছেই ফারসি শিক্ষার হাতে খড়ি হয়েছিল। তবে নজরুল ফারসি কবি হাফিজকে মর্মে উপলব্ধি করেন পল্টনের মৌলভীর সান্নিধ্যে এসেই। হাফিজের কবিতা তাঁর মনে একধরনের নীরব উন্মাদের জাগিয়ে দেয়। অন্যদিকে এই সময় রুশ বিপ্লবের ঘটনা আর এক দিক থেকে তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। জারের নিগ্রহ থেকে রাশিয়ার জনগণের মুক্তির সংবাদ তাঁকে ভেতরে-বাইরে উদ্বেলিত করে। পল্টন জীবনের এ-দুটি ঘটনা যেন প্রকৃত অর্থেই তাঁর একহাতে 'বাঁশরী' আর এক হাতে 'রণ-তূর্য'- এর প্রতীকী রূপ পেয়েছিল।
বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে দরিদ্র এক পরিবারে নজরুলের জন্ম। নজরুল পিতৃহারা হন আট বছর বয়সে। এর পরে বড়ো অনিশ্চয়তা এবং দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে কেটেছে তাঁর শৈশব-কৈশোর। গ্রামের মক্তব থেকে নিম্ন প্রাথমিক পাশ করেছেন; ওই মক্তবেই দশ বছর বয়সে তাঁকে শিক্ষকতা দিয়ে জীবনের প্রকৃত সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হয়েছে। পরে মাজার শরীফের খাদেমের কাজ, মসজিদে ইমামতি, বাবুর্চিগিরি, রুটির দোকানে ময়দামাধার চাকরি—কৈশোরে জীবিকার জন্য এতো কিছু! বর্ধমান হাইস্কুলে কিছুদিন পড়াশোনা করার পরে চলে যান ময়মনসিংহের দরিরামপুর হাইস্কুলে। সেখান থেকে এক বছর পরে পলায়ন এবং শিয়ারশোল হাইস্কুলে দশম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন। শিয়ারশোল স্কুলে পড়ার সময়েই ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনে যোগদান করেন। নৌশেরায় ট্রেনিং নিয়ে চলে যান করাচীতে। ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টন ভেঙে দেওয়া হয় তিন বছরের মাথায়। নজরুল চলে আসেন কলকাতায়। এই তথ্যগুলি আমাদের অজানা নয়। তবু নজরুলের যে কোনো সৃষ্টিকর্ম আলোচনা কালে এগুলি বার বার মনে করা জরুরী হয়ে পড়ে। এক দুর্মর অনিশ্চয়তা এবং অস্বচ্ছলতা পল্টনে যাবার আগে পর্যন্ত তাঁর অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হয়ে ছিল। পল্টন জীবন তাঁর স্বাভাবিক মনোজীবনের সম্পূর্ণ বিপরীত হলেও, মনে হয় সেখানে তিনি কিছুদিন নিশ্চিত জীবন লাভ করেছিলেন। সেখানে তিনি ফারসি-জানা পাঞ্জাবী মৌলভীর কাছে ফারসি শেখেন, যদিও কৈশোরে তাঁর চাচার কাছেই ফারসি শিক্ষার হাতে খড়ি হয়েছিল। তবে নজরুল ফারসি কবি হাফিজকে মর্মে উপলব্ধি করেন পল্টনের মৌলভীর সান্নিধ্যে এসেই। হাফিজের কবিতা তাঁর মনে একধরনের নীরব উন্মাদের জাগিয়ে দেয়। অন্যদিকে এই সময় রুশ বিপ্লবের ঘটনা আর এক দিক থেকে তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। জারের নিগ্রহ থেকে রাশিয়ার জনগণের মুক্তির সংবাদ তাঁকে ভেতরে-বাইরে উদ্বেলিত করে। পল্টন জীবনের এ-দুটি ঘটনা যেন প্রকৃত অর্থেই তাঁর একহাতে 'বাঁশরী' আর এক হাতে 'রণ-তূর্য'- এর প্রতীকী রূপ পেয়েছিল।
