কাজী নজরুল ইসলামের সাংবাদিকতা
খোন্দকার সিরাজুল হকসারসংক্ষেপ
নজরুল বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী বাংলা ভাষার একজন খ্যাতিমান সাহিত্য শিল্পী। কবিতা ও গানে তাঁর প্রতিভা চূড়া স্পর্শ করেছে। কিন্তু সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যান্য শাখাতেও তাঁর পদচারণা নিরর্থক হয় নি। নজরুল তাঁর সৃষ্টিমুখর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে তাঁর প্রিয় দেশবাসীর কল্যাণকামনায় নিয়োজিত করেছিলেন। তাই এ-দেশের গণচিত্তকে স্পর্শ করতে তাঁর বেশী সময় লাগে নি। প্রথম মহাযুদ্ধের অন্তিমলগ্ন থেকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের মধ্যবর্তী কালপরিধিতে তাঁর কর্মপ্রচেষ্টা যে ভাবে পরাধীন দেশবাসী ও বিদেশী শাসক গোষ্ঠীকে আলোড়িত করেছিল, তা তুলনারহিত। 'শিল্পের জন্য শিল্প' তত্ত্বে তাঁর প্রত্যয় ছিল না। তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই 'মানুষের কবি'। তাই দ্বিধাহীনভাবে তিনি ঘোষণা করতে পেরেছিলেন; বর্তমানেন কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই নবী, কবি ও অবুঝ যাহা বলো মোরে মুখ বুজে তাই সই সব। ... পরোয়া করি না, বাঁচি বা না-বাঁচি যুগের হুলুড় কেটে গেলে, মাথার উপরে জ্বলিতেছে রবি, রয়েছে সোনার পথ ছেলে। প্রার্থনা করো-যারা কেড়ে খায় ছিয়াত্তর কোটি মুখের গ্রাস যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ। এ-ই কবি নজরুল, যিনি যশ ও খ্যাতির পরোয়া কোনদিনও করেন নি। মানুষের সর্বাঙ্গীন মুক্তির জন্য তিনি তাঁর লেখনীকে এমনভাবে ব্যবহার করেছেন যে, তা তরবারীর চেয়েও ধারাল হয়ে উঠেছে। ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী এই ক্ষুরধার লেখনীকে স্তব্ধ করার জন্য তাঁর গ্রন্থকে বাজেয়াপ্ত করেছি, তাঁকে নিক্ষেপ করেছে কারাগারে। কিন্তু কিছুতেই তাঁকে নিবৃত্ত করা যায় নি। দেশবাসীর মুক্তির এই আতান্তিক কামনা থেকেই তাঁর রাজনীতির মঞ্চে এবং সংবাদপত্রের জগতে পদার্পণ ঘটেছিল। লেখক হিসেবে নজরুল কলকাতা ও ঢাকার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকলেও তাঁর সম্পাদিত ও পরিচালিত পত্রিকা ছিল তিনটি—‘নবযুগ’, ‘ধূমকেতু’ ও ‘লাঙল’।
